২০২৬ নার্সিং কাট মার্ক কি আকাশছোঁয়া হবে? 🚨 Nursing Admission 2026: পাসের নম্বর নিয়ে বড় ঘোষণা!
২০২৬ সালের নার্সিং ভর্তি পরীক্ষা: ৮১ হাজার প্রার্থীর লড়াই ও সম্ভাব্য কাট মার্কের চূড়ান্ত গাইড
বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে নার্সিং পেশা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি নিশ্চিত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিএসসি ইন নার্সিং, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে ভর্তিচ্ছুদের সংখ্যা সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৮১,০০০ আবেদনকারীর পদচারণায় মুখরিত হবে এবারের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো।
এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর ভিড়ে সরকারি নার্সিং কলেজে একটি আসন পাওয়া এখন যুদ্ধের মতো কঠিন। আজকের এই বিশদ আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য কাট মার্ক ও সঠিক তথ্য নিয়ে আলোচনা করব।
🔥 ভর্তি পরীক্ষার সর্বশেষ আপডেট ও বিশেষ ঘোষণা
সূত্রমতে, এবার মোট আবেদনকারীর মধ্যে ৩৪,০০০ জন বিএসসি এবং ৪৭,০০০ জন ডিপ্লোমা ও মিডওয়াইফারির জন্য লড়বেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পেমেন্ট জটিলতার কারণে প্রায় ৩০০০ প্রার্থীর আবেদন ঝুলে আছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো— নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় কোনো নেগেটিভ মার্কিং নেই! অর্থাৎ, আপনি ১০০টি প্রশ্নের সবগুলোর উত্তর দিয়ে আসতে পারবেন কোনো নম্বর কাটা যাওয়ার ভয় ছাড়াই।
১. আবেদনকারীর সংখ্যা ও আসনের সমীকরণ
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে হলে আপনাকে প্রথমে আসনের হিসাবটি বুঝতে হবে। সরকারি কলেজের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় প্রতিযোগিতার হার প্রতি সিটে প্রায় ৩০-৩৫ জন। নিচের টেবিলে ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| কোর্স | আবেদন সংখ্যা (প্রায়) | সরকারি সিট (প্রায়) | প্রতি সিটে লড়াই |
|---|---|---|---|
| বিএসসি ইন নার্সিং | ৩৪,০০০ জন | ১২০০টি | ২৮ জন |
| ডিপ্লোমা ইন নার্সিং | ৩৯,০০০ জন | ২৭৩০টি | ১৪ জন |
| ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি | ৮,০০০ জন | ১০৫০টি | ৮ জন |
২. ২০২৬ সালের সম্ভাব্য কাট মার্ক বিশ্লেষণ
যেহেতু নেগেটিভ মার্কিং নেই, তাই কাট মার্ক গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ১০০টি প্রশ্নের সবগুলোর বৃত্ত ভরাট করার সুযোগ পায়, ফলে গড় নম্বর বেড়ে যায়।
Scenario A: যদি প্রশ্ন অনেক কঠিন হয়
প্রশ্ন কঠিন হলেও নেগেটিভ মার্কিং না থাকায় প্রার্থীরা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে অনেক উত্তর সঠিক করতে পারে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা:
- বিএসসি: ৭২ - ৭৫
- ডিপ্লোমা: ৬৮ - ৭০
- মিডওয়াইফারি: ৬৩ - ৬৬
Scenario B: যদি প্রশ্ন সহজ হয়
প্রশ্ন সহজ হলে প্রতিযোগিতা ভয়াবহ রূপ নেবে। এক্ষেত্রে ৮০ এর নিচে স্কোর নিয়ে বিএসসিতে চান্স পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
- বিএসসি: ৮২ - ৮৭
- ডিপ্লোমা: ৭৭ - ৮১
- মিডওয়াইফারি: ৭২ - ৭৫
৩. জিপিএ (GPA) মার্ক: যেখানে ভাগ্য নির্ধারিত হয়
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-র গুরুত্ব অপরিসীম। এসএসসি জিপিএ-কে ৪ দিয়ে এবং এইচএসসি জিপিএ-কে ৬ দিয়ে গুণ করে মোট ৫০ নম্বরের জিপিএ স্কোর হিসাব করা হয়। যাদের জিপিএ-তে পূর্ণ ৫০ নম্বর আছে, তারা লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে থাকে। আপনার যদি জিপিএ-তে ৫ বা ১০ নম্বর কম থাকে, তবে আপনাকে মূল পরীক্ষায় সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। নেগেটিভ মার্কিং না থাকার কারণে সামান্য ১-২ নম্বরের ব্যবধানে আপনার সিরিয়াল কয়েক হাজার পিছিয়ে যেতে পারে।
৪. জেলা কোটা ও মেধা তালিকার রহস্য
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় মূলত ৬০% মেধা কোটা এবং ৪০% জেলা কোটা অনুসরণ করা হয়। এর ফলে দেখা যায়, ঢাকা নার্সিং কলেজে চান্স পেতে যেখানে ৮৫ নম্বর লাগছে, সেখানে জেলা কোটার কল্যাণে অন্য কোনো জেলায় ৭৫ নম্বর পেয়েও চান্স হয়ে যাচ্ছে। তাই আপনার জেলা অনুযায়ী কাট মার্ক ভিন্ন হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটার প্রার্থীদের জন্য কাট মার্ক আরও ৫-১০ নম্বর পর্যন্ত কম হতে পারে।
৫. আর্মি নার্সিং ও সিভিল নার্সিং-এর পার্থক্য
আর্মি নার্সিং কলেজগুলোতে ভর্তির প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন। সেখানে লিখিত পরীক্ষার পর শারীরিক পরীক্ষা এবং ভাইভা নেওয়া হয়। ২০২৬ সালে যারা আর্মি নার্সিং-এ ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য কাট মার্ক সিভিল নার্সিং-এর চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এখানে ডিসিপ্লিন এবং স্মার্টনেসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৬. ২৭ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা ও প্রস্তুতির কৌশল
ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বিএনএমসি দেয়নি। তাই আপনার হাতে সময় খুবই সীমিত। যেহেতু নেগেটিভ মার্কিং নেই, তাই প্রস্তুতির কৌশল হবে এমন— যেন আপনি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর অন্তত যুক্তি দিয়ে অনুমান করতে পারেন।
🔥 শেষ সময়ের স্পেশাল চেকলিস্ট
- বিগত বছরের প্রশ্ন ব্যাংক অন্তত ৩ বার রিভিশন দেওয়া।
- বাংলা সাহিত্য অংশে কবি-সাহিত্যিকদের উপাধি ও জন্ম-মৃত্যু সাল মনে রাখা।
- ইংরেজি গ্রামারের Basic Rules (Right form of verbs, Narration, Voice) ঝালাই করা।
- সাধারণ জ্ঞানে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও গ্লোবাল ইস্যুগুলো দেখা।
- ১০০ নম্বরের ওএমআর (OMR) শিটে পরীক্ষা দেওয়ার প্র্যাকটিস করা।
উপসংহার: স্বপ্ন পূরণের লড়াই
৮১ হাজার প্রার্থীর মধ্যে সেরা হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। নেগেটিভ মার্কিং না থাকা আপনার জন্য একটি বড় সুযোগ। আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষা দিন। আপনার কঠোর পরিশ্রমই আপনাকে পৌঁছে দেবে আপনার স্বপ্নের সরকারি নার্সিং কলেজে।
আপনার এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ কত? এবং আপনি কোন কোর্সে আবেদন করেছেন? কমেন্টে জানান, আমরা আপনাকে সঠিক গাইডলাইন দেব!
.jpg)
নার্সিং এডমিশন একাডেমির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url